জেনজিরা অলস ও লিবারেল ব্রেনওয়াশের শিকার: ক্যারোলিন লেভিট
তরুণ প্রজন্ম তথা ‘জেনারেশন জেড’-কে অলস এবং ‘লিবারেল’ বা উদারপন্থী চিন্তাধারায় আচ্ছন্ন বলে মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক জেসি ওয়াটার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি নিয়ে যেসব তরুণরা অভিযোগ করছে, তাদের কিউবা বা ইরানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। সেখানে গেলে তারা ‘খুব দ্রুতই দেশে ফিরে আসতে চাইবে।’
আলোচনাকালে জেনারেশন জেডের দুর্বল কর্মদক্ষতার জন্য তিনি মূলত ‘লিবারেল প্রফেসর এবং শিক্ষকদের’ দায়ী করেন। একই সঙ্গে এই আলোচনায় সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে তরুণ, বামপন্থী ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের জয়লাভের বিষয়টিও উঠে আসে—যাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজের উপস্থাপক লেভিটকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যখন আপনার কোনো বাস্তবসম্মত চাকরি বা কাজ থাকে না, তখন সবকিছুই ব্যয়বহুল মনে হয়। আপনার কি মনে হয় তরুণদের এই অভিযোগ কোনো সুফল বয়ে আনছে?’
জবাবে ২৮ বছর বয়সি লেভিট বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমি মনে করি এটি প্রভাব ফেলছে। কারণ এই প্রজন্ম, অর্থাৎ আমার নিজের প্রজন্ম (জেনারেশন জেড) এবং আমার চেয়ে যারা বয়সে ছোট, তারা মুখে রুপার চামচ নিয়ে বড় হয়েছে। তারা সবকিছু হাতের নাগালে সহজেই পেয়ে গেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের মানসিকতা ও মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকা গড়ে ওঠেনি।
লেভিট বলেন, ‘আমেরিকা গড়ে উঠেছে মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের প্রচেষ্টায় নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের (আমেরিকান ড্রিম) ওপর ভিত্তি করে। আর আমাদের যেকোনো মূল্যে এটিকে রক্ষা করতে হবে।’
জেনারেশন জেডের কাজের মানসিকতা নিয়ে আলোচনাকালে উপস্থাপক জেসি ওয়াটার্স প্রশ্ন করেন, এর পেছনে তরুণদের ‘অলসতা’ দায়ী কিনা এবং লিবারেল শিক্ষক ও অধ্যাপকরা এই সমস্যা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন কিনা।
লেভিট এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে দাবি করেন, অলসতা এবং ‘লিবারেলদের মগজধোলাই’ উভয়ই এর জন্য দায়ী। এই প্রসঙ্গে তিনি যেসব অভিভাবক সন্তানদের হোম-স্কুলিং (বাড়িতে শিক্ষা) করাচ্ছেন বা খ্রিস্টান স্কুলে পাঠাচ্ছেন তাদের প্রশংসা করেন। লেভিট বলেন, ওই অভিভাবকরা চান না তাদের সন্তানরা কমিউনিস্ট এবং লিবারেল ভাবধারার সংস্পর্শে আসুক।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ওয়াটার্স রসিকতা করে বলেন, অবাধ্য তরুণদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এর প্রতিক্রিয়ায় লেভিট বলেন, তাদের সেনাবাহিনীতে না পাঠিয়ে কিউবা বা ইরানে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে; তাহলে তারা ‘খুব দ্রুতই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে দেশে ফিরে আসতে চাইবে।’
ক্যারোলিন লেভিটের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, লেভিটের এই বক্তব্য বর্তমান তরুণ আমেরিকার প্রকৃত অর্থনৈতিক সংকট ও বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।
সমালোচকরা আকাশচুম্বী আবাসন খরচ, স্টুডেন্ট লোনের বোঝা এবং বর্তমানের কঠিন চাকরি বাজারের কথা উল্লেখ করে জানান, তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
এই সাক্ষাৎকারের পর, অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী জেনারেশন জেডের ভোটারদের আগামী নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে এই মন্তব্যের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অনেকে লেভিটকে শ্রমজীবী পরিবার এবং তরুণ প্রজন্মের বাস্তব সংগ্রাম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ‘বিচ্ছিন্ন ও অজ্ঞ’ বলে অভিযুক্ত করেছেন।

